৮০ হাজার টাকায় বিচ্ছেদ এক তরুনের সাথে হিজরার প্রেম

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজেস্ব ডেক্স

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩২ অপরাহ্ণ

মোঃ রকিবুল হাসান, জয়পুরহাট। ০৪ নভেম্বর ২০১৯
এইচএসসি ১ম বর্ষের এক তরুনের সাথে হিজরার প্রেম। প্রায় দেড় বছর আগে পরিচয় আর পরিচয় থেকেই পরিনয়। তবে কোন নারী-পুরুষে নয়। সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষায় বসতে যাওয়া এক তরুনের সাথে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি পাওয়া এক হিজরার সম্পর্ক।

বলছি জয়পুরহাট শহরের বারিধারার বাসিন্দা ঝুমকা হিজরা ও জয়পুরহাট সদরের ঘোনাপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে বর্তমান রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র শিহাব উদ্দীনের গড়ে ওঠা ভালবাসার কথা। হিজরা ঝুমকা জানান, দেড় বছর আগে বটতলী তুলশী গঙ্গা নদীর পারে প্রথম পরিচয় হওয়া তৎসময়ের আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র শিহাব উদ্দীনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়।

এরপর সে এসএসসি পাশ করার পর সম্পূর্ণ আমার খরচে রাজশাহীর বরেন্দ্র কলেজে তাকে ভর্তি করে দেই। গত দেড় বছর তার এমন চাহিদা নেই, যা আমি পূরন করিনি। বিষয়টি তার বাবাও জানতেন এবং এরই সুবাধে তিনিও আমার কাছ থেকে গত দুই মাস আগে জমি কিনবে বলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অর্থাৎ গত মাসের প্রথম সপ্তাহে গরু কিনবে বলে আরো ৫০ হাজার টাকা চাইলে, আমি সেই প্রস্তাবে রাজি হইনি, বিধায় তিনি তার ছেলেকে আমার কাছ থেকে দূরে রেখেছেন। গত ১ মাস ধরে শিহাবের ২/৩টা সিমই বন্ধ থাকায় তার সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ করতে পারিনি। এতে করে আমি ভেঙ্গে পরি। অবশেষে শনিবার বিকাল ৩টায় শিহাবের বাড়ীতে আমিসহ বেশ কয়েকজন হিজরা সাথিদের সঙ্গে নিয়ে শিহাবের খোঁজ করলে তার পরিবারের সদস্যরা বম্বু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-ম্যাম্বারসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে একটি গ্রাম্য শালিসি বৈঠকের আয়োজন করেন।

সেখানে আমি গত দেড় বছর যাবৎ শিহাব ও তার পরিবারের পেঁছনে যত টাকা ব্যয় করেছি, সেগুলো বর্ণনা করি এবং আমার সাথে কিছু অন্তরঙ্গ মূহুর্তের ছবি ও ভিডিও দেখাই। পরে তারা হিজরা ও পুরুষের সম্পর্ক কিছুতেই মেনে নিতে না পেরে আমার সাথে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে এক প্রকার জোর পূর্বক রফাদফা করেন। ৮০ হাজার টাকা দিয়ে আমার দেড় বছরের সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটায় এই শিহাবের পরিবার।

তবে একটা কথাই বলতে চাই- আমরা হিজরা হলেও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ, আমাদের মনেও প্রেম-ভালবাসা বাসা বাধে। তাই আমাদের সাথে প্রতারণা করবেন না দয়া করে। এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্র শিহাব উদ্দীনের বাবা খলিলুর রহমান জানান, শুনেছি আমার ছেলের সাথে ঝুমকা হিজরার সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল। তবে টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়টি সত্য নয়।