সাংবাদিক সংগঠনসমুহের মাঝে জাতীয় ঐক্য জরুরী

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৮:৫০ অপরাহ্ণ

সাংবাদিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সংঠনসমুহের মাঝে জাতীয় ঐক্য জরুরী। সাংবাদিক ও সংগঠনসমুহের নিকট বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে এ আহবান জানানো হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন -হয়রাণী বন্ধসহ ন্যায্য অধিকার, দাবি ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে এই ঐক্যের বিকল্প নেই।

স্বাধীনতার ৪৯ বছর ধরে এদেশের সাংবাদিকরা পদেপদে বঞ্চিত হচ্ছেন। যার প্রমান চলমান করোনা ইস্যুতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের সকল পেশার মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদানা, বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের কোন ক্যাটাগরীতে বরাদ্দ রাখা হয়নি। যা রীতিমত সাংবাদিকদের জন্য কষ্টের। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার, দাবি ও মর্যাদা রক্ষা করতে হলে দেশের সকল সাংবাদিক সংগঠনকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে দাঁড়াতে হবে, নয়তো অধিকার আদায় সম্ভব হবেনা।

দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে সাংবাদিকরা সরকারী প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরীতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মূহুর্তের খবর গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন।

বিশেষ করে এই মূহুর্তে করোনার মহামারী ঠেকাতে সরকারের পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টিম কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগ শনাক্ত ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গণমাধ্যম প্রচারণার মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করে তুলছেন। এক্ষেত্রে কারো ভুমিকা কম নয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে আর্থিক সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিষয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নেই। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন বিচ্ছিন্ন ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আর্থিক বরাদ্দের দাবিতে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। এভাবে বিচ্ছিন্ন ভাবে দাবি তোলা হলে সরকারও বিভ্রান্তির মাঝে পড়ে। ফলে পেশার সাথে জড়িতরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। যে কারনে বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা খুব বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে।

৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভূত্থান ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের সাংবাদিকদের উজ্জ্বল ভুমিকা ছিল। এছাড়াও রাষ্ট্রের সকল ক্রিটিক্যাল মূহুর্তে সাংবাদিকদের ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়। বিগত সরকার সমুহের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক কল্যান ট্টাষ্ট গঠন নি:সন্দেহে একটি মহতী উদ্যোগ। কিন্তু সেই টাকা মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের ভাগ্যে জুঁটেনি। সাংবাদিক সংগঠনসমুহের মাঝে ঐক্য না থাকায় বেশির ভাগ অর্থ ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতারা পকটস্থে ব্যস্ত। এই অর্থের ভাগিদার কিন্তু ৬৪ জেলার সাংবাদিকরাই।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম দেশের সাড়ে ৩শ শাখা কমিটিতে প্রায় ১২ হাজার সদস্য সাংবাদিক নিয়ে ১৪ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিএমএসএফ ঘোষিত ১৪ দফা দাবি বাস্তবায়ণ হলে একজন সাংবাদিকের পেটের ক্ষুধা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা রক্ষা পাবে।

রাষ্ট্রের অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করছেন এদেশের সাংবাদিকরা। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত তারা মামলা-হামলা, হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। গণমাধ্যমের পক্ষ থেকেও তারা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। চলমান করোনায় এ পর্যন্ত ১৬ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতবরণ করলে তার পরিবারই বা কী পাবেন তা এখনও স্পষ্ট করেনি সরকার। তাই আসুন, এই দূর্দিনে সাংবাদিক সংগঠন সমুহের মাঝে একটি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে তাদের পাশে দাঁড়াই।

আহমেদ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, কেন্দ্রীয় কমিটি।