মফস্বল সাংবাদিকের প্রাণের স্পন্দন বিএমএসএফ

প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০ | আপডেট: ২:০৯ অপরাহ্ণ

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সাংবাদিকতা সহজ নয়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা। তবে এটা সবার জন্য নয়। আমরা মানুষ শুধু চাওয়া পাওয়া নিয়ে হিসাব করি। সকল শ্রেণি পেশার মানুষেরই রয়েছে না পাওয়ার বেদনা। সাংবাদিকসহ সকল জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে বাড়ছে বিভিন্ন জটিলতা। মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। সকল পেশার মানুষেরই সমস্যা রয়েছে সচেতন মহলের দাবি-জনসচেতনতার অভাবে অপরাধমুলক কর্মকান্ডও বাড়ছে।

সাংবাদিকদের কাজ সমাজের সঠিক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা। তাই সাংবাদিকরা হলো সমাজের দর্পণ। নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল প্রাণের স্পন্দন হল বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সাংবাদিকরা জাতির সামনে তুলে ধরে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সুখ, দুঃখ, হাসি কান্না, সফলতা ও ব্যর্থতার কথা গুলো।

বিএমএসএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর প্রায়শই বলে থাকেন, শক্তিশালী গণমাধ্যম একটি গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দেশের গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীন। হামলা-মামলার শিকার হন প্রায়শই। দেশকে উন্নয়ন সমৃদ্ধ করতে সাংবাদিক নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ খুব জরুরী। সাংবাদিকের মাঝে আজ চরম অনৈক্য। বিএমএসএফ ঐক্যে বিশ্বাস করে। বিএমএসএফ সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে অনঢ়।

তাইতো কোথাও সাংবাদিক হয়রানি হলেই তার পাশে এসে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। কোন সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু হলে সেই মৃত্যুর কারন ও সঠিক তদন্তের দাবী তোলে। কোন সাংবাদিকের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে শোকের মাতম নিয়ে আসে। আর সেই সংগঠনের নাম বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম। হাটি হাটি পা পা টিক টিক করে ৮ বছরে পথচলা বিএমএসএফ কোন রাজনৈতিক নেতার ছোবলের লালসার শিকার না হয়ে আজো দেশে এবং দেশের বাইরের সাংবাদিকদের প্রাণের স্পন্দন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে অনেক মা বোনের ইজ্জত দিতে হয়েছে। যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। শহীদের রক্তের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকা ও স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা। কিন্তু বেঈমান ও কিছু দুষ্টুলোকের কারণে মানবতার কল্যাণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে যা অনেকেরই অভিমত।

দেশে কয়েক হাজার সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে টেলিভিশন, জাতীয় পত্রিকা, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন সংবাদপত্র রয়েছে। সেখানে অগনিত সংবাদ কর্মী এবং স্টাফ কাজ করেন। আইনজীবী, পুলিশ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ সকল পেশায় কিছু বেঈমান ও দুষ্টু প্রকৃতির লোক থাকে। তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করার কারণে প্রকৃত ভালো মানুষের বদনাম হচ্ছে। এসব প্রকৃতির মানুষ কিছু অপরাধীকে আটক কার হলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেঁচে যাচ্ছে তারা। যারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করছেন। একটু চিন্তা করে দেখেন যে, সাংবাদিকেরাই বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সংবাদ কর্মীরা। একটি স্বাধীন দেশে একজন মানুষ তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হবে তা মেনে নেয়া যায়না। আমি একজন ক্ষুদ্র কলম সৈনিক হিসাবে একটা বিষয় উল্লেখ করেছি- তা হলো জনবান্ধব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বিষয়টি।

গণমাধ্যমে শুধু নেতিবাচক কিংবা চলমান ঘটনাই বেশি প্রাধান্য পায় জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও কর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় সরকার তথা রাষ্ট্র আরো বেশি আন্তরিক হবে এমনটি প্রত্যাশা করবো। গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও আরাধ্য থেকে যাবে। আমি একজন ক্ষুদ্র কলাম লেখক হিসেবে মনে করি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হলো আন্দোলন। আর আন্দোলনের প্রাণ হলো বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ।

একটি কথা অবাক লাগার মত হলেও সত্য যে মাত্র একজন ব্যক্তির চেস্টায় আজ এই সংগঠনের সুনাম অর্জন হতে চলেছে যার নাম অনেকেই এরই মাঝে শুনেছেন তিনি- সাংবাদিকের প্রাণের স্পন্দন বিএমএসএফ’র প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ আবু জাফর। আমার চোখে দেখা বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক “আহমেদ আবু জাফর ভাই সাংবাদিকদের সকল দাবির সাথে সারা বাংলাদেশের সাড়ে ৩শ শাখা কমিটির প্রায় ১২ হাজার সাংবাদিক নেতাকর্মী বিএমএসএফ ঘোষিত ১৪ দফা দাবির সাথে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করছে।

নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বিএমএসএফ সারাদেশের সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাবৃদ্ধি, কল্যান ও অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময় সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন অপশক্তি সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় ওইসকল অপশক্তি কোন ক্ষতিসাধণ করতে পারেনি, পারবেওনা। তিনি সব সময় নির্যাতিত ও নিপীড়িত সাংবাদিকের পক্ষে লড়াই ও সংগ্রাম করছেন সংগ্রামী নেতা জাফর ভাই।

সাংবাদিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও অধিকার আদায়ের জন্য ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ। প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে বিএমএসএফ সাংবাদিকদের পাশে থেকে অবিরাম কাজ করে চলছে। সাংবাদিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ের লক্ষে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। কাজ করছে সাংবাদিকদের দাবি, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে।

ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ আকারে রুপ নেয়া বিএমএসএফ এখন দেশের সকল সাংবাদিকের প্রয়োজনে বিপদে-আপদে পাশে থাকছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিএমএসএফ এখন আমেরিকা, লন্ডন, ইতালি, মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপে বাংলাদেশী সাংবাদিকদের আস্থার-প্রাণের সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংগঠনটি দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম পাইলট সভাপতি ও আহমেদ আবু জাফর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক, বোরহানউদ্দিন শাখা ও নির্বাহী সদস্য, ঢাকা জেলা বিএমএসএফ।