ভোলা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে পাঠক আবির জমাদারের মতামত

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩০ অপরাহ্ণ

আজকে ভোলা জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু যুক্তিক আলোচনা করব।
জেনে রাখা ভালো

  • ভোলা জেলার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বোরহাউদ্দিন পাওয়ার প্ল্যান্টের ৬০এমভিএ ট্রান্সফরমার এবং ভোলা ভেনচার রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে, যাদের উভয়ের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা ৯০ মেঃওঃ। বর্তমানে সমগ্র ভোলা জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা হচ্ছে ৭০ মেঃওঃ (যাহা বছরে ২/১ দিন থাকে, বাকি সময় চাহিদা অনেক কম থাকে) ।
    ১। প্রশ্নঃ চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা বেশি থাকা সত্যেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না কেন?
    উত্তরঃ এককথায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনের সক্ষমতা কম। উদাহরণ স্বরূপ- গত ১২ দিনের তথ্য অনুযায়ী চরফ্যাশন ৩৩কেভি মেইন লাইন বহুবার ট্রিপ করে ১৮ ঘন্টা ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে।
    যার মধ্যে তাঁর ছিড়ে এবং জাম্পার কেটে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটে ৭ বার। বাকি সময় গাছ-পালা লেগে লাইন বন্ধ হয়। উল্লিখিত যে আরো ২৬ ঘন্টা নিজেরা লাইন বন্ধ করে কাজ করেছে। মোট ৪৪ ঘন্টা ৩৩ কেভি লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। একথা স্পষ্ট যে, উক্ত লাইনের তাঁর দুর্বল এবং গাছ-পালা ঠিকমতো কাটা হয় না । এটা শুধুমাত্র ৩৩ কেভি লাইনের অবস্থা আর ১১কেভি লাইনের কথা আর নাইবা বললাম। এরূপ অবস্থা শুধু চরফ্যাশনই নয়, বোরহাউদ্দীন, লালমোহন সমগ্র ভোলাতে একই অবস্থা। তবে ওজোপাডিকো নিয়ন্ত্রণাধীন ভোলা, বোরহাউদ্দীন এবং চরফ্যাশন উপজেলা শহরগুলোতে তুলনামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো রয়েছে ।

২। প্রশ্নঃ বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি না থাকা সত্তেও শুধুমাত্র চরফ্যাশনে কেন দৈনিক ৮/১০ ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়?
উত্তরঃ এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুত নিজে বাঁচার জন্য বলছে যে বোরহাউদ্দীন পাওয়ার ৬০ এমভিএ পাওয়ার ট্রান্সফরমার ওভার লোড।
অথচ উক্ত ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৪৯ মেঃওঃ বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৫৫ মেঃওঃ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব বলে বোরহাউদ্দীন পাওয়ার প্ল্যান্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছেন ।
প্রকৃত পক্ষে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের মাধ্যমে ১৬ মেঃওঃ এর বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিতে পারেন না। অপরদিকে চরফ্যাশন পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ২৩ মেঃওঃ হওয়ায় বাকি ৭মেঃওঃ নিয়মিত লোডশেডিং করে যাচ্ছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ যখন বোরহাউদ্দীন পাওয়ার ট্রান্সফরমারকে অক্ষম বলে মানুষকে বোকা বানিয়ে লোডশেডিং দিচ্ছে, ঠিক তখনই পল্লী বিদ্যুৎ উক্ত ট্রান্সফরমারের সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম ৩৫ মেঃওঃ লোড নিচ্ছে শুধুমাত্র তাদের লাইনের দুর্বলতার কারনে। এ ব্যাপারে বোরহাউদ্দীন পাওয়ার প্ল্যান্ট কতৃপক্ষ বলেন অতিরিক্ত লোডের কারনে তাদের ট্রান্সফরমার কখনোই ওভার লোডে ট্রিপ করনি।
আরেকটি বিষয়, যদি ওই ট্রান্সফরমার ওভার লোডের কারনে লোডশেডিং করা হয়, তাহলে বোরহাউদ্দীন ও লালমোহনে উপজেলা শহরগুলোতে কেন লোডশেডিং করা হয় না?
৩। প্রশ্নঃ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লোডশেডিং কেন করা হয়?
উত্তরঃ ভোলা পল্লী বিদ্যুতের এমপন কিছু ১১ কেভি লাইন রয়েছে যার দৈর্ঘ্য মাত্রাতিরিক্ত। যেমন চরফ্যাশনের দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ১১কেভি লাইনের র্দৈঘ ৪১০ কিঃমিঃ (৪মেঃওঃ), ৩৭০, কিঃমিঃ(৪মেঃওঃ), ২৬৫ কিঃমিঃ(২.৫মেঃওঃ), ও ২৪০ কিঃমিঃ(২.৫মেঃওঃ) হওয়ায় রোটেশন অনুযায়ী লোড সেড করতে হলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রোয়জন অতিরিক্ত লোড সেডিং করে রাখতে হয়।
৪। প্রশ্নঃ লোডশেডিং করার অনুমতি কে দেয়?
উত্তরঃ সারা বাংলাদেশে যে কোন জায়গায় লোডশেডিং করতে হলে ”ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার (NLDC)” এর অনুমোদন নিয়ে লোডশেডিং করতে হয়। অথচ ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ NLDC তো দূরের কথা পিডিবির যেই পাওয়ার ট্রান্সফরমারের কারনে লোডশেডিং করা হচ্ছে, সেই পিডিবির কতৃপক্ষকেও না জানিয়ে নিজেদের ৩৩ কেভি লাইনের দুর্বলতা ঢাকার জন্য অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে চুপিচুপি লোডশেডিং করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ যখন বিদ্যুৎ খাতে সয়ংসম্পুর্নতা করেছে এবং তা তরান্বিত হচ্ছে তখনও ভোলা জেলার মধ্য ও দক্ষিন অঞ্চলের জন মানুষ পল্লী বিদ্যুৎ এর অ-ব্যবস্থাপনার কারনে লোড শেডিং এর কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন যাহা বর্তমান সরকার তথা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ভিশন -২১ বাস্তবায়নের পরিপন্থি।
পরিশেষে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগেকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য উপরোক্ত বিষয়ে কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি ।