বিএমএসএফ মানেই সাংবাদিকদের আশ্রয়স্থল

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২০ | আপডেট: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মোঃ কবির নেওয়াজঃ সাংবাদিকদের কাজ সমাজের সঠিক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা। তাই সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ বলা হয়। নির্যাতিত মানুষ শেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে সাংবাদিকদের দারস্থ হয়।আর নির্যাতিত সাংবাদিকদের শেষ আশ্রয়স্থল হল বিএমএসএফ। এই সাংবাদিকরা জাতির সামনে তুলে ধরে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সুখ, দুঃখ, হাসি কান্না, সাফল্য ব্যর্থতার কথা।প্রতিদিনই কোন না কোন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে সংবাদ কর্মীরা।

একটি স্বাধীন দেশে একজন মানুষ তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হবে তা মেনে নেয়া যায়না। আমি একজন ক্ষুদ্র কলম সৈনিক হিসাবে একটা বিষয় উল্লেখ করেছি- তা হলো জনবান্ধব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বিষয়টি। গণমাধ্যমে শুধু নেতিবাচক কিংবা চলমান ঘটনাই বেশি প্রাধান্য পায় জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে। এই বৃত্ত থেকেও গণমাধ্যমকর্মীদের বেরিয়ে আসার আহবান জানাবো। কারণ একজন সংবাদকর্মী হিসাবে উন্নয়ন- সম্ভাবনা কিংবা শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নেওয়া এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

পাশাপাশি গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় সরকার তথা রাষ্ট্র আরো বেশি আন্তরিক হবে এমনটি প্রত্যাশা করবো। সারাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মরত প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহবান থাকবে রাজনৈতিক লেজুড় পরিহার করে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে একাতাবদ্ধ হতে হবে। কর্মক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও আরাধ্য থেকে যাবে।

আমার জানামতে,এক এগারোর অনিশ্চিত যাত্রা যখন গোটা দেশকে অন্ধকারে ধাবিত করছিলো তখন একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য এদেশে সংবাদমাধ্যমই সবার আগে এগিয়ে আসে। তখন দুই জোটের প্রধান দুই নেত্রী থেকে শুরু করে অনেকেই মিডিয়ার সহযোগীতায় কাতর ছিলেন। প্রকাশ্যে বলেছেন সংবাদমাধ্যমই পারে দেশকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করতে। তখন দেশের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দাবিগুলো সমন্বিতভাবে প্রকাশ করে তখনকার শাসক শ্রেণীর ওপর রীতিমতো চাঁপ সৃষ্টি করেছিলো সংবাদমাধ্যম। যার চুড়ান্ত ফল হচ্ছে আজকের মহাজেট সরকার।যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের মুষ্টিমেয় ব্যক্তির আগ্রাসী ভূমিকা, পুলিশের বেপরোয়া আচরণ আর অহেতুক হামলা-মামলায় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে সাংবাদিকতা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রায়ই হামলার শিকার হচ্ছেন সংবাদকর্মীরা। সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পড়ে আবার পরিস্থিতির শিকার হয়ে কখনো কখনো অকাতরে প্রাণ দিতে হচ্ছে তাদের।

সাংবাদিকদের নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ হওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার ব্যাপারে সাংবাদিক সংগঠন, পত্রিকার মালিক, সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবতে হবে। সংবাদপত্রের প্রাণ হলো সাংবাদিক। বাংলাদেশ এখন সামগ্রিকভাবে এগিয়ে চলছে। এগিয়ে চলার এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা প্রয়োজন। সাংবাদিক সমাজ নিগৃহীত হলে এবং তাদের নিরাপত্তা না থাকলে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।

বিএমএসএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর বলেন, একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম একটি গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। সাংবাদিক নির্যাতন ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়া এটাই প্রমাণ করে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধ করেই পার পাওয়া যায়।

আমি একজন কলাম লেখক হিসেবে মনে করি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হলো আন্দোলন। আর আন্দোলনের প্রাণ হলো বিএমএসএফ। আমার চোখে দেখা বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক “আহমেদ আবু জাফর ভাই সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ের জন্য বাংলাদেশের সাড়ে তিনশ শাখার প্রায় ১২০০০ সাংবাদিকদের অভিভাবক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি সব সময় নির্যাতিত ও নিপীড়িত সাংবাদিকের পক্ষে লড়াই ও সংগ্রাম করছেন।একজন সাংবাদিক যখন রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করেন তখনই তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়। এর পরই তারা নানাভাবে হেয় করার জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন; যা মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য এক প্রকার হুমকি।

গণমাধ্যমে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার জন্য দরকার সাংবাদিকদের ঐক্য ও সাংবাদিক সংগঠন। আর ওইসব নির্যাতিত সাংবাদিকদের শেষ আশ্রয়স্থল হলো বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম এর তথ্যমতে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক হত্যার বিচার এড়ানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও আছে।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। দেশের প্রতিটি সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম।বাংলাদেশে সাংবাদিকদের অনেক সংগঠন আছে কিন্তু কোন সাংবাদিক নির্যাতিত হলে কোন সংগঠন পদক্ষেপ নেয় না। নির্যাতিত সাংবাদিক কে নিয়ে আন্দোলন করে না।

একমাত্র বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম নির্যাতিত সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। বিএমএসএফ সাংবাদিকদের অধিকার, রুটি রুজি, মর্যাদা রক্ষা, আইনি সহায়তা ও পরামর্শ সেবা প্রদান করে থাকে। আমি আশা বাদী BMSF এর কলম সৈনিকদের লেখা পড়ে মানুষ ভালো কিছু শিখবেন। উৎসাহিত হবেন। ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবেন।বিএমএসএফ এর প্রতিষ্ঠাতা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের একজন আদর্শ। আমি তাকে স্যালুট জানাই এজন্য তিনি এমন একটি সংগঠন সারা বাংলাদেশের সাংবাদিককে উপহার দেওয়ার জন্য।বিএমএসএফ মানেই সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন। বিএমএসএফ মানেই সাংবাদিকদের শেষ আশ্রয়স্থল।