বাবা এক বটবৃক্ষ, আশ্রয়ের নাম

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

বাবা এক বটবৃক্ষ, আশ্রয়ের নাম। পিলার আর ছাওনি দিয়ে বাড়ি যেমন নির্মাণ করা হয়। তেমনি একটি মজবুত খুঁটি উপর ভালোবাসা, আস্থা-বিশ্বাসের ছাওনি দিয়ে তৈরি হয় পরিবার। সেই মজবুত খুঁটিই হলেন বাবা। সেই খুঁটির স্নেহ, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ছায়ায় পরম মমতায় আগলে থাকে পুরো পরিবার।

বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ। সন্তানের একমাত্র নিরাপত্তার চাদর। সন্তানের প্রথম ভালোবাসা। বাবা হলেন আবদারের ভান্ডার। বাবা মানে একটু শাসন। আবার বাবার মাঝেই জড়িয়ে আছে বিশালত্বের এক অদ্ভুত মায়াবী প্রকাশ।

‘আমার মা টা কোথায়? শব্দটা কানে আসতেই লাফাতে লাফাতে এসে হাজির। বয়স তার দুই বছর। বাবার কথা শুনতেই আগে কোলে গিয়ে বসবে সে। তারপর বাবার সব কাজ। বড্ড বাবা ঘেষা মেয়েটি। বাবা বাসায় থাকলে আর মায়ের খবর থাকে না তার। বাবা ছাড়া একমূহুর্তও কল্পনা করাও যেন দায় ছিলো তন্নির। এই বাবাই তো গুটি গুটি পায়ে চলতে শিখিয়েছে তাকে। রাতে বাবার ঘাড়ে মাথা না রাখলে ঘুম আসে না তার। আবার অসুখ হলেও বাবার কাঁথে মাথা রেখে এই ঘর থেকে ওই ঘর পায়চারি না করলে শান্তি পেতো না মেয়েটি। দিন যেতে যেতে বড় হতে থাকে সে। স্কুলের প্রথম দিনটি থেকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবাই ছিলো তার অদম্য সাহসের উৎস। আবার আবদারের ভান্ডারও বটে।

মেয়েটি আজ বড় হয়েছে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। পড়ালেখা শিখে আজ চাকরি করছে বড় একটি অফিসে। বাবার প্রেরণায় বড় ডিগ্রিও নিয়েছে সে। কিন্তু আজও বাবার সেই ছোট্ট পরি হয়েই রয়েছে। আজও বাবা বাড়ি ফিরলেই মেয়েকে না দেখেলে যেন ঘর খালি খালি মনে হয় তার। অনেকটা কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে মেয়েটিকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়েছেন বাবা। যখন চাকরি করতে করতে বাবা ক্লান্ত, সংসারের ভার বইতে বইতে শক্ত কাঁধটা নুইয়ে পড়ছে তখন সন্তানের এই সাফল্যই যেন ক্লান্ত বাবার বুকটা গর্বে ভোরে দেয়। বাবা আজ প্রশান্তির নিশ্বাঃস ছাড়েন মেয়ে যে তার সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মেয়েটিও বাবার আদর্শে নিজেকে সাজাতেই যেন ব্যস্ত। একদিন এই তন্নিই বাবাকে না দেখলে অবুঝ মনে কাদঁতে থাকতো। আজ মেয়ের সাফল্যে আনন্দের জল যেন বাবার চোখ থেকে ছাপিয়ে পরছে।