টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপের রোষানালের স্বীকার সাংবাদিক মোস্তফার পরিবারের পাশে ঢাকার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ; প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০ | আপডেট: ২:১৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও কক্সবাজারের এসপি মাসুদ হোসেনের রোষানলে সর্বনাশ নেমে এসেছে স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা ও তার পরিবারের। এসপি ও ওসির যোগসাজশে টেকনাফ থানায় ৩টি মাদক মামলা এবং কক্সবাজার সদর থানায় আরো ৩টি মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি হয়েছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা। টেকনাফে মামলার পর ক্ষ্যান্ত হয়নি পুলিশ। ফরিদুলকে পুলিশ ঢাকা থেকে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা সাজিয়ে আসামি করে বলে অভিযোগ তার পরিবারের সদস্যদের।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা জানান, এসপির নির্দেশে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে আমার স্বামীকে বিনা দোষে আটক করে প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ। আমার স্বামী এসপি ও ওসির বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট, গ্রেফতার বাণিজ্য ও অনিয়মের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হন এসপি ও ওসি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফরিদুলের স্ত্রী হাসিনা মোস্তফা বলেন, স্বামীকে জামিনে মুক্ত করতে নিজের বাড়িঘর-জমিজমা সর্বস্ব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন নিঃস্ব হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি আমি ও আমাদের ২ ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। প্রধানমন্ত্রী আপনি ছাড়া আমাদের রক্ষা করার কেউ নেই। আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা আপনিই পারবেন আমাদের রক্ষা করতে।

এলাকাবাসী ও সহকর্মী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে ফরিদুল মোস্তফা খান একজন নিরপেক্ষ ও মেধাবী সাংবাদিক হিসাবে সুপরিচিত। কৈশর থেকেই লেখালেখিতে অভ্যস্ত। দৈনিক কক্সবাজারবাণী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। আজ তিনি ১১ মাস ধরে বিনা দোষে কারাজীবন ভোগ করছেন। কক্সবাজারের এসপি ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রোষানলে পরে ৬টি মিথ্যা মামলার আসামি। তার জামিন করাতেও ব্যর্থ হয়েছেন পরিবারের লোকজন। ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৩ ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা। স্ত্রী, ৩ সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের চরম অভাব অনটনে দিন কাটছে।
একদিকে পুলিশের নির্যাতনের কারনে জেল হাজতে শারীরিক অসুস্হতার কারনে ফরিদুল মোস্তফা রোগাক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুক্ষনে প্রহর গুনছে অন্যদিকে তার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।
সাংবাদিক মোস্তফার পরিবার প্রধানমন্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

এদিকে নির্যাতিত ও মিথ্যা মামলায় জেলহাজত থাকা সাংবাদিক মোস্তফার অসহায় পরিবারের সাথে গতকাল সাক্ষাত করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্টাতা সাধারন সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক আহমেদ আবু জাফর,বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি খায়রুল আলম রফিক,বাংলাদেশ অনলাইন এডিটরস কাউন্সিলের প্রতিষ্টাতা আবুল কালাম আজাদ,জার্নালিষ্ট হেল্প সেন্টারের প্রতিষ্টাতা এস এম জীবন,বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহি সদস্য এম এ আকরাম, নান্টু লাল দাস সহ স্হানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক মোস্তফার পরিবারের খোজখবর নেন এবং আইনি লড়ায়ের মাধ্যমে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে মুক্ত করার জন্য সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দেন।