কী হবে মানুষ গড়ার কারিগড়দের-আবুল বাশার সম্পাদক ইউকেএবি

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনার অবস্থার উন্নতি না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই করতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়তে কারিকুলাম নির্দিষ্ট করে দিবে।

কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে শুধু শিক্ষাই জড়িত নয়, এর সাথে জড়িত রয়েছে অনেকগুলো পরিবারের বাঁচা মরার লড়াই। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকসহ অন্যান্য স্টাফদের জীবিকা নির্বাহ হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই। ১/২ মাস হলে কষ্ট করে ম্যানেজ করা যেতো, কিন্তু ৬/৭ মাসের ধাক্কা স্বল্প আয়ের শিক্ষকদের পক্ষে সামাল দেয়া অসম্ভব। সরকারের নিবন্ধিত স্কুল কলেজ,মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও যথাসময়ে ব্যাংক এ তাদের বেতন-ভাতা চলে আসবে । কিন্তু অনিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন,নুরানী মাদ্রাসা ,হেফজখানাসহ ব্যক্তি পর্যায়ের সাথে জড়িত তাদের বেতন কে পরিশোধ করবে?

এসব প্রতিষ্ঠান এর আয়ের উৎস হল শিক্ষার্থীদের বেতন, ফি এবং দাতাদের প্রদত্ত অনুদান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেতন বন্ধ, এমনকি ডোনারদের অনুদানও বন্ধ। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষের করুন অবস্থা । একদিকে নিজেদের আয়ের উৎস বন্ধ, অপরদিকে ভাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা।
সরকার প্রণোদনা ঘোষণা দিয়ে সেই টাকা যদি শুধুমাত্র পুঁজিপতিদের বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের পিছনে ব্যয় করছে, আর মানুষ গড়ার কারিগর এসব শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কালো আধার নেমে আসলে শিক্ষকরা যদি নিঃস্ব হয়ে যাবে।
মানুষ গড়ার এসব মানুষ না পারবেন কারো কাছে হাত পাততে, না পারবেন খেয়ে পরে বাঁচতে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই খোজ খবর নেওয়া।পাশাপাশি সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ।
শিক্ষার সাথে জড়িত এসব মানুষ গড়ার কারিগরদের খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য বিনাশর্তে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে শিক্ষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণার আনুরোধ।
শুধু নিম্নবিত্ত এবং উচ্চবিত্তের কথা ভাবলে চলবে না, মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা এসব বিপদে পড়া মানুষদেরও রক্ষা করার কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই।