করোনা প্রতিরোধে জোন ভিক্তি লকডাউন শুরু

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০ | আপডেট: ২:২০ অপরাহ্ণ

মোঃ এনামুল হকঃ (স্টাফ রিপোর্টার)

দেশব্যাপি করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে আজ থেকে সোমবার এলাকাভিত্তিক লকডাউন বা অবরুদ্ধ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

গতকাল রোববার
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমনটি জানিয়ে বলেন, ‘সরকার মূলত জোনভিত্তিক লকডাউনের মাধ্যমে করোনা মোকাবেলার কৌশল গ্রহণ করেছে।

সেই কৌশলে রেড জোন চিহ্নিত এলাকা লকডাউনের আওতায় ও সাধারণ ছুটি থাকবে সেখানে।

তবে আগের শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মান্য করে গণপরিবহন ও অফিসের কার্যক্রম চলবে।

ঢাকা সিটি করের্পারেশনের ৪৫টি এলাকাকে রেড জোনে চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির গত শনিবারের সভায় এসব এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়।

এদিকে এসব এলাকায় ১৫ তারিখ থেকে লকডাউন ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফররহাদ হোসেন।

ফরহাদ হোসেন জানান, জোনিং করে লকডাউন, এটা খুবই একটা কার্যকর ব্যবস্থা বলে মনে হচ্ছে।

একই সঙ্গে চার-পাঁচটি স্থান রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

পরীক্ষামূলক লকডাউন চলছে রাজাবাজারে। সেখানকার ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোকে সংশোধন করা হবে, একটি স্থানকে শুধু লকডাউন করলেই চলবে না, সেখানে বসবাসকারী মানুষের জন্য আমাদের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে, এগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান সংক্রামক রোগ আইন অনুযায়ী রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোয় কোনও এলাকা লকডাউন করতে হলে সেই জেলার সিভিল সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমতি নিয়েই লকডাউন করতে হবে।

সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার লকডাউন কার্যকর করবেন, যে এলাকা রেড জোনের আওতায় থাকবে, সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে, তবে প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে আর সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন ফরহাদ হোসেন।

তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার বাইরে যে এলাকায় প্রতি লাখে ১০ জন বা এর বেশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী থাকবে সেখানেই রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হবে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে রোগীর অবস্থান করা জায়গা বা এলাকা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কোন এলাকায় লকডাউন করা হবে তা আগে থেকে বলা হলে তো লোকজন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাবে।

রেড জোনে জনসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে, যাদের খাবার প্রয়োজন তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির গত শনিবারের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মোট ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা আছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ১১টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়েছে। সিটি কর্রোশেনের বাইরে তিন জেলার মধ্যে গাজীপুরের সব কটি উপজেলাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ডেপুটি পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব ডা. জহিরুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১১ জুন কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১৪ দিনের প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার ভেতরে ৬০ জন রোগীর থাকার ভিত্তিতে এই রেড জোন ঘোষণা করা হচ্ছে। এটা কেবল ঢাকা এবং চট্টগ্রামের জন্য প্রযোজ্য। বাকি জেলাগুলোতে ১৪ দিনের ভেতরে ১ লাখ জনসংখ্যা্র ১০ জন থাকলে সেটাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটির রেড জোন চিহ্নিত এলাকা: উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ১৭ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে সেগুলো হলো- মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির রেড জোন চিহ্নিত এলাকা: দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকার মধ্যে আছে- যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, বাসাবো, শান্তিনগর, পরিবাগ, পল্টন, আজিমপুর, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সেগুনবাগিচা।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটির ১০ এলাকাকে রেড জোনের মধ্যে রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড,এ ছাড়াও করোনা প্রতিরোধে সকল কে সচেতনতার সহিত চলাচল, এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও মেনে চলার আহব্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।