করোনার বন্ধে বাড়িতে এসে বখাটেদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার দুই সহধর

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০ | আপডেট: ১০:০১ অপরাহ্ণ

নসরুল্লাহ আল কাফীঃ
করোনা ভাইরাসের বন্ধে বাড়িতে এসে বখাটেদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সেউতিবাড়িয়া গ্রামের দুই ভাই।

উপজেলার সেউতিবাড়িয়া এরাকার আ. লতিফ গাজীর ছেলে মাসুম গাজী (১৯) ও তরিকুল (১৬) ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। এই মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে দেশ লগডাউন পরিস্থিতিতে বাড়িতে আসছিল দুই ভাই। বাড়িতে এসে দুই ভাই পার্শ্ববর্তি চরহোগলাবুনিয়া এলাকায় তাদের ফুপু বাড়ি যাওয়ার পথে ওই এলাকার বখাটে জনি হাওলাদার (২০) ও তার সহকর্মীরা দুই ভাইকে পথরোধ করে পকেটে কি আছে তা বের করতে বলে। দুই ভাইয়ের পকেটে থাকা ৯০০/টাকা ও মোবাইল ফোন বের করতে না চাইলে প্রথমে জনি এবং পরে তার সহকর্মীরা দুই ভাইকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে ওদের কাছে থাকা এন্ড্রুয়েট ফোন দুই টা ও বাটুন সেট একটা এবং সঙ্গে থাকা নগদ ৯০০ টাকা নিয়ে ওদেরকে আটকিয়ে রাখে।

এ বিষয় জানতে চাইলে মাসুম গাজী বলেন-আমরা মোবাইল দিতে না চাইলে আমাকে ও আমার ভাই তরিকুলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে, কেচি দিয়ে চুল কেটে দিয়েছে, হাতে ও পায়ে খেজুর কাটা ঢুকিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখার কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ি ফুফুর বাড়ি আর যেতে পারি নাই।

এবিষয়টি মাসুম ও তারিকুলের বাড়ির লোকজন জানতে পেরে, তাদের কে উদ্ধার করতে গেলে তাদের কাছে বখাটে জনি ও তার লোকজন ২০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৫ হাজার টাকা দিয়ে মাসুম ও তরিকুলকে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে উক্ত বিষয় ভুক্তভুগির পিতা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।সাংবদিকগণ বখাটে জনির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ওদেরকে ধরিনি এলাকার অন্য লোকজনে ধরছিল কিন্তু আমি সমাধান করে দিয়েছি। মোবইল ফোনের বিষয় জানতে চাইলে বলেন, ওদের কাছে ২ টা ফোন ছিলো একটা দিয়ে দিছি আর একটা এলাকার এক লোকের কাছে আছে এবং টাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

এ বিষয় এলাকায় খোজ নিয়ে জানা যায় চরহোগলাবুনিয়া গ্রামের মো: আলম হাওলাদারের ছেলে জনি হাওলাদার (২০) সে এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে এবং বর্তমান এমপিকে আত্মিয় পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করে।

এবিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়াতা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশন বরিশাল বিভাগের সভাপতি মো. নুরুল্লাহ আল আমিন বলেন, ভুক্তভোগীর পিতা উক্ত বিষয় আমার কাছে একখানা লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি জনিকে ফোন করেলে জনি বলে আমি সন্ধার মধ্যে স্থানিয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: হেমায়েত সাহেবের কাছে মোবাইল ও টাকা জমা দিয়ে দেব। তিনি তাদের কাছে বুঝিয়ে দিবেন। বুঝিয়ে দিয়েছে কি না তা আমি আর জানতে পারি নাই।
এবিষয়ে হোগলাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার এলাকায় করোনা ভাইরাসের রুগী মারা গিয়েছে। আমি এবিষয়ে এখন কথা বলতে পরবোনা, আপনি ইউপি সদস্য রুহুল আমিনের সাথে কথা বলুন।

ইউপি সদস্য রুহুল আমিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
উলেখ্য বখাটে জনি ইউপি সদস্য রুহুল আমিনের ভাইয়ের ছেলে। দলিয় প্রভাব খাটিয়ে নানা রকম অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে এই জনি।