অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের প্রবিধানে কয়েক হাজার শিক্ষক সুযোগ বঞ্চিত হবে

বাংলার কলম বাংলার কলম

নিজস্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০ | আপডেট: ৮:০৯ অপরাহ্ণ

কামিল ও ফাযিল মাদরাসায় নিয়োগ প্রবিধান

দেশের ১৩শ ৪২টি ফাযিল ও কামিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগে উপাধ্যক্ষের অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দিয়ে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিধানমালা ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নীতিমালা জারীর ফলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সহকারী অধ্যাপক অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পরেছেন।

সহকারী অধ্যাপকদের সূত্রে জানাগেছে, গত ২২ জানুয়ারী ইসলামী আবরী বিশ্ববিদ্যালয় হতে জারীকৃত আদেশে বলা হয়, ইসলামী আবরী বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯ প্রবিধানমালা (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে সহকারী অধ্যাপক পদে (আরবী বিষয়সমূহ) ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ কামিল/ ফাযিল মাদরাসায় মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবার অধ্যক্ষ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ/ কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ পদে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ কামিল/ফাযিল মাদরাসায় মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সংক্ষুদ্ধ শিক্ষকদের দাবী- নতুন এই প্রবিধানমালার ফলে কামিল/ফাযিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ না পেলে কারো অধ্যক্ষ পদে আবেদনের কোন সুযোগ নেই। ফলে অধিক যোগ্যতা অভিজ্ঞতা থাকা সত্ব্যেও অনেক শিক্ষক উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বা অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে অধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

সংক্ষুদ্ধ শিক্ষকরা আরো জানান, কামিল/ফাযিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ বা অধ্যক্ষ পদে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হয়েছে। আগে উপাধ্যক্ষ বা অধ্যক্ষ পদে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল শ্রেণিতে ১ম শ্রেণি বাধ্যতামূলক ছিল। এখন এই শর্ত তুলে দিয়ে কেবল কামিল পাশ জুড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে মেধাবীদের ঠেলে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদেরও এই পদে আবেদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

চরফ্যাসন কারামাতিয়া কামিল (এম.এ) মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবী) মুহাম্মদ নুরুল আমীন বলেছেন, সংশোধিত এই প্রবিধানমালার ফলে দেশের কামিল/ফাযিল মাদরাসা সমূহে কর্মরত সাড়ে ৪ হাজার সহকারী অধ্যাপক(আরবী বিষয় সমূহ) যোগ্যতা থাকার পরও অধ্যক্ষ পদে আবেদনের সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি কামিল/ ফাযিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ বা অধ্যক্ষ পদে শিক্ষাগত যোগ্যতায় কামিল শ্রেণিতে ১ম শ্রেণি শিথিল করার বিষয়টি আরো ভাবনার অবকাশ রাখে।